ভারতের কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজু ও রেবতি রানী সরকারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ঘটেছে।
নিহতের স্বজন ও ঘনিষ্টদের সূত্রে জানাগেছে, আলিমুজ্জামান সাজু (৪৭) গত ১০ আগষ্ট-২৬ তারিখে বাড়ি থেকে ভিসায় ভারতে যায়। ঐদিনেই দমদম বিমানবন্দর দিয়ে ব্যাঙ্গালোরে যান, পরেরদিন অর্থাৎ ১১ই আগষ্ট মনিপাল হাসপাতালে নার্ভের চিকিৎসককে দেখান এবং সেখানে চিকিৎসাসেবা নিয়ে ১৭ আগষ্ট দুপুরে বিমানযোগে কলকাতায় পৌছায়ে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে উঠে। পরেরদিন হোটেলে এ্যসি বিস্ফোরণে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় উপজেলার বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস আলী সরদারের ছেলে সাজুসহ তেতুলিয়া গ্রামের ভবেষ সরকারের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী রেবতিরানী সরকার (৩৮) নিহত হয়।
সাজুর বড়ভাই ব্যবসায়ী সাহেব আলী সরদার ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজুর ঘনিষ্ট বন্ধু এনামুল হক এনাম বলেন সাজু
অবিবাহিত, একজন সফল মৎস্যচাষী ও সমাজসেবক ছিলেন। এলাকায় সকলের সাথে তার ছিলো সখ্যতা ও বন্ধুসূলভ ব্যবহার। তার লাশ দেশে নিয়ে আসার জন্যে দুই দেশের নিয়মকানুন মেনে চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে নিহত সাজুর ভাগ্নে জামাই (ভারতে অবস্থানরত) শ্যামনগরের বিল্লাল হোসেন কলকাতার মর্গে অবস্থান করছেন। দেশে এনে তারই ইচ্ছানুযায়ী নিজ বাড়ির আঙিনার কাঠালতলায় দাফন সম্পন্ন করা হবে। অপরদিকে পঃ তেতুলিয়া গ্রামের তুলসীপদ সরকারের ছেলে তপন কুমার সরকার বলেন আমার বৌদি রেবতিরানী সরকার গত ১০ আগষ্ট চিকিৎসার জন্যে ভারতে যায়। বৌদি ও তার ছেলে অনিক সরকার ও মেয়ে তৃমারানী সরকার ভারতের বারাসাতের মাটিয়া বাজার এলাকায় বোনের বাড়িতে ছিলো। এর আগে মহারাষ্ট্রে থাকা বাবা মা’র ওখানে ছিলো। এখন লাশ কলকাতায় মর্গে আছে, উভয় দেশের সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে পরিবার।
সাজুর বন্ধু বরেয়া গ্রামের শেখ আব্দুল্লাহ এর ছেলে শেখ আবু সাইদ, মোহাম্মদ আলী সরদারের ছেলে গোলাম হোসেন ও চাচা বাবলুর রহমান সরদার জানান এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় সাজু ও রেবুতি রানী সরকারের মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।